আমি স্কুলে গেলে বন্ধুরা আমারে লজ্জা দেয়। আমারে ওরা খেলতে নেয়না। কেউ ভেংছি কাটে, উপহাস করে। আমার সাথে কেউ বন্ধুত্ব করতে চায়না অপমান করে। প্রথমে আমার কছে খুব খারাপ লাগতো, কান্নাকাটি করতাম, স্কুলে যেতে চাইতাম না তয় এহন আর আমি ওসবের জন্য ভাবি না। এহন একটা আশা পাড়শুনা করে ভবিষ্যতে মানুষের মতো মানুষ হয়ে এদের দেখিয়ে দিতে চাই। একটা হাত না থাকলেও পড়াশুনা কোন বাধা হতে পারে না। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার দুর্গাবদ্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র শাওন বেপারীর একটা হাত না থাকা প্রসঙ্গে এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। উক্ত দুর্গাবদ্দী গ্রামের দিনমজুর দুলাল বেপারী ও গৃহিনী মিতালী বেপারী ছেলে শাওন ৫ বছরের সময় গাছ থেকে পড়ে গিয়ে বাম হাতটি ভেঙ্গে যায়। পরে ভাঙ্গা স্থানে ইনফেকশন হলে ডাক্তার তার বাম হাতটি কেটে ফেলে। এর পরে থেকে শাওন পঙ্গু অবস্থায় একটি হাত ছাড়াই গ্রামে ছোট ছুটি করে বেড়ায়।
দুলাল বেপারী জানায়, শাওন খুব ছোট থেকে অনেক মেধাবী, ওকে স্কুলে দেয়ার পর সকল শিক্ষক ওকে আলাদা নজর দেয়। ও খুব পড়াশুনায় ভালো তাই ওকে অনেক দূর যেতে হবে। তবে মাঝে মাঝে খুব খারপ লাগে যখন আমার ছেলেকে পাড়ার লোকজন পঙ্গু বলে উপহাস করে। দূর্গাবদ্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, শাওন পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী। একারনে আমরা সবাই ওকে আদর স্নেহ করি। আমার বিশ্বাস পারিবারিক ভাবে সাহায্য পেলে ও অনেক দূর যেতে পারবে। খোঁজ জানা যায়, সাওনের পারিবারের সমস্যা দারিদ্রতা। দিনমজুর পিতার পক্ষে ওর পড়াশুনার খরচ মেটানো খুবই কষ্ট সাধ্য। ৩ বোন ২ ভাই সহ ৭ জনের সংসার চালানো দুলাল বেপারীর পক্ষে একবারে অসম্ভব। সেখানে পড়াশুনার খরচ চালানো সেটা আরো দুরূহ ব্যাপার। তবে শাওনের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে পঙ্গুত্ব জয় করে যে ভবিষ্যতে যোগ্য নাগরিক হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। সরকারী বেসরকারী সহ সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে একটু সহযোগিতা করলে পঙ্গুত্ব জয় করে শাওন একদিন উচ্চ শিক্ষিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে পারবে।
সুম্মিতা হালদার, শিশুপ্রকাশ, মাদারীপুর








