মাদারীপুর সদরের ১০৮ নং লেবুতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে অনত্দত: ১০ শিক্ষাথর্ী আহত হয়েছে। এনিয়ে অভিবাবকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন জানা গেছে,মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের লেবুতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল দুপুরে পাঠদান্কালে পাশের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর কিছু শিক্ষাথর্ী হৈ-চৈ করায় সম্পা আক্তার নামের এক শিক্ষিকা শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের এলোপাথারী বেত্রাঘাত করতে থাকে। বেত্রাঘাতে লামিয়া (রোল)-২২,সানি (রোল)-৪২,তনি্ন রোল-১৩,নোমান(রোল)-১,কলি (রোল)-১৪,একই শ্রেণীর বাবুল,সাগর,বাচ্চু আহত হয়। আহতদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষাথর্ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষাথর্ীদের অভিবাবদের মধ্যেও উত্তেজনা ও এ ঘটনার উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা সম্পা আক্তার তার দোষ স্বীকার করে বলেন,আমি পাশ্ববতর্ী শ্রেণীকক্ষে পাঠদান রত ছিলাম। ওই সময় পাশের শ্রেণীকক্ষের শিক্ষাথর্ীরা হৈ-চৈ করায় তিন তিন বার আমি সেখানে গিয়ে তাদের সতর্ক করে দেই। এর পরও যখন তারা আমার কথা শুনছিলো না তখন আমি ওই শ্রেণীকক্ষে ঢুকে কয়েকজন শিক্ষাথর্ীদের দিকে বেত ছুড়ে মেরেছি ।এতে কজন শিক্ষাথর্ী সামান্য আঘাত পায়। এর পর পরই আমি শিক্ষাথর্ীদের আদর করে দেই এবং অভিবাবকদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে আমার ভুল স্বীকার করেছি।
আহত শিক্ষাথর্ী লামিয়ার অভিবাবক সেকান্দার আলী শেখ জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আচার আচরন ও আর্থিক অনিয়মসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। মাঝে-মধ্যেই তারা শিক্ষাথর্ীদের সাথে রূঢ় আচরন করেন। আজকের ঘটনা আরো ভয়াবহ। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষিকার অপসারনসহ উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
আহত শিক্ষাথর্ী লামিয়া জানায়, ক্লাসে ২/৪ জন ছাত্র-ছাত্রী হৈ-চৈ করলেও আমরা কোন দোষ করিনি,ম্যাডাম শুধু শুধু আমাদের কে পিটিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান,ঘটনার সময় তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন না। তবে তিনি ঘটনা শুনে তাৎক্ষনিকভাবে বিদ্যালয়ে যান এবং অভিবাবকদের সাথে আলোচনায় বসেন। অভিবাবকরা লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি দোষী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তিনি আরো জানান,ইতি মধ্যে তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতর্া মো: মোহসীন রেজা জানান,বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ঠ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদনত্দ সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমানিত হলে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








