shishuprokash.com


মাদারীপুরে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের উপর শাস্তি ও নির্যাতন থামছে না

E-mail Print PDF
শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০১১

শিশু প্রকাশ মাদারীপুর\\ আদর স্নেহে হবে জয় শাস্তিতে যা কভু নয় এ শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবছর সারা দেশে অনুকরনীয় প্রতিবাদী কন্ঠস্বর মীনা দিবস পালিত হলেও দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় মাদারীপুর সদর সহ জেলার চারটি উপজেলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। বরং দিন কে দিন এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ ও মন্ত্রনালয়ের জারী করা কোন পরিপত্র কাজে আসছে না। এমনকি সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিদ্যালয়ে শিশু নিযর্াতন বিরোধী বিভিন্ন প্রচার প্রচারনায়ও কোন কাজ হচ্ছে না।
দাতা সংস্থা ইউনিসেফ ও গনমাধ্যম বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ম্যাস্-লাইন মিডিয়া সেন্টার (এম এম সি)'র যেীথ উদ্যোগে পরিচালিত মাদারীপুর শিশু প্রকাশের একদল ক্ষুদে সাংবাদিকদের ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদারীপুর সদর সহ জেলার চারটি উপজেলার অধিাকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর শারিরীকও মানষিক নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। সামন্য অজুহাতে শিক্ষার্থীদের উপর বেএাঘাত, চরথাপ্পড়, চুলটানা,চিমটি দেয়া , ডাস্টার ছুড়ে মারা, কান টানা, চেয়ার টেবিলের নিচে মাথাদিয়ে দাড় করে রাখাসহ অকথ্য মানষিক নির্যাতন চলে। যা বর্তমানে প্রেক্ষাপটে মোটও সঙ্গতিপূর্ন নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামান্য হইচইরকারনে শিক্ষকের হাতে প্রচন্ড মারখেয়ে হাসপাতাল ভর্তি হওয়া, এসেম্বলী ক্লাসে সামান্য নড়া চড়ার কারনে শত শত শিক্ষার্থীদের সামনে কান ধরে উঠবস করা,
সবার সামনে খোলা মাঠে সূর্যের দিকে প্রচন্ড রোদে দাড়িয়ে থাকা, পড়া না হওয়ার কারনে সাবার সামনে বেঞ্চের উপর দাড়িয়ে কান ধরা সহ বহুমাত্রিক মানুষিক নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটলেও কর্তৃপক্ষের কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। যে কারন অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ভীতির জন্য বিদ্যালয় ত্যাগ করছে। যার ফল শ্রুতিতে শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্নক ভাবে বাঁধা গ্রস্ত হচ্ছে। অনুসন্ধানের জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার ১০৮ নং লেবুতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৫ সেপ্টম্বর কা্লশ চলকালে পাশের শ্রেনী কক্ষে শিক্ষকের অনুপস্থিতর কারনে দ্বিতীয় শ্রেনীর কিছু ক্ষুদে শিক্ষার্থী সামন্য হইচই করার অপরাধে সম্পা আক্তার নামের এক শিক্ষিকা প্রচন্ড রেগে মারমুখী অবস্থায় শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করে। এসময় শিক্ষিকা এলোপাতাড়ি ভাবে ঐ সব শিশু শিক্ষার্থীদের উপর নির্দয়ভাবে বেত্রাঘাত চালায়। প্রচন্ড বেত্রাঘাতে তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী লামিয়া, সানি , তন্নী, নোমান, কলি, বাবুল, সাগর, বাচ্চু, সহ বেশ ক'জন শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে। অনেকে ভয়ে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। অবিভাবকরাও শংকিত হয়ে পড়ছে। সবমিলিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যদিও প্রসাশনের সুষ্ঠ বিচারের আশ্বাসে বর্তামনে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শিক্ষার্থীরা ভীতিমুক্ত হয়নি।
মাদারীপুরের রাজৈর উজেলার আমগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক এ্যাসেম্বলী ক্লাশে সামান্য নড়া চড়ার অপরাধে ৩ ছাত্র কে বেদম প্রহার করে। এতেও সে ক্ষ্যান্ত না হয়ে ঐ ছাত্রদের প্রকাশ্য শত শত ছাত্র ছাত্রীদের সামনে খোলা মাঠে সূর্যে দিকে তাক করে কান ধরে প্রায় ঘন্টা খানেক দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা এসে তাদের ক্লাশ রুমে নিয়ে যায়।
এদিকে জেলার রাজৈর উপজেলার শংকরদি গ্রামের এক মক্তব শিক্ষক সুমন (১০) নামের এক ছাত্র কে অত্যন্ত নির্দয় ভাবে পিটুনি দেয়। মারাত্মাক আহতাবস্থায় তাকে রাজৈর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সমপ্রতি কাল মাদারীপুর জেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নেয়া হয়েছে কিন্তু কোন ক্রমেই শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়। বিদ্যালয় গামী ছাত্র ছাত্রীদের উপর বিভিন্ন কারনে নির্যাতন হলেও বাইরে তেমন একটা প্রকাশ হচ্ছে না। খোজ নিয়ে জানা যায়, গ্রাম অঞ্চলের বক্তব্য গুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। এখানে শিশু অধিকার, মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। সামান্য পান থেকে চুন খসলেই শিশুদের প্রচন্ড ভাবে বেত্রাঘাত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে ক্লাশ রুমে বেতের প্রচলন বন্ধের জন্য পরিপত্র জারী করলেও এসব প্রতিষ্ঠান কোন নির্দেশই মানা হচ্ছে না। আব্দুল হালিম, রহমান মিয়া সহ বেশ কয়জন অবিভাবক বলেন আসলে বিদ্যালয় গুলোতে মারধর আর নির্যাতনের কারনে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল পালানো, স্কুলে না যাওয়া,
স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাম না বলার শর্তে এজন প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষর্থীদের ক্লাশ রুমে নির্যাতন বন্ধের পরিপত্র আমরা পেয়েছি তবে সত্যিকথা বলতে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রনে আনতে দুই চারটি কড়া কথা ও একটু আধটু বেত্রাঘাত না করলে হয় না। জানা যায় গত বছরের ৯ই আগষ্ট দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষর্থীদের শারিরীক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ঘোষনা করে শিক্ষা মন্ত্রনালয় পরিপত্র জারী করে। যারা শারিরীক শাস্তি দিবেন তা প্রামান হলে তাদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ১৮৬০, ১৯৭৪ সালে শিশু আইনে ও ক্ষেত্র মতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অনুরূপ পরিপত্র জারী করেছে। মহামান্য হাইকোর্ট ও মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো ক্লাশ রুমে শিশুর প্রতি শারিরীক ও মানষিক শাস্তি প্রদান করা হয়। এ ব্যাপারে রাজৈর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। তার পরও যদি কোন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেয় তাহালে আমরা ব্যাবস্থা নিব।
অভিজ্ঞ মহলের মতে , শিশুর সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য দরকার ভীতিমুক্ত আনন্দ মুখর পরিবেশ। উল্টো বিদ্যালয়ে শারীরিক ও মানষিক শাস্তি দিলে শিশুদের মনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় ।
যার ফলশ্রুতিতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া বিনোধনহীন শিক্ষা স্বাভাবিক শিক্ষার জন্য বড়ধরনের অন্তরায়। এ জন্য দরকার সচেতনা। শিক্ষক অভিবাবক প্রত্যেকের উচিত আগামি দিনের নাগরিকদের আদর স্নেহে ভীতিমুক্ত ও আনন্দ মূখর পরিবেশে নির্যাতনহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রতিবেদনটি তৈরী করেছে মাদারীপুর শিশুপ্রকাশের ক্ষুদে সাংবাদিক সুস্মিতা হালদার, নিপু আক্তার, মুরাদ আলম, শারমিন আক্তার, সজীব ফরাজী, নির্জনা, আল-আমিন হাওলাদর, সাদ্দাম হোসেন, সনিয়া আক্তার, আল-আমিন।


blog comments powered by Disqus
 


Content View Hits : 3308070
AddThis Social Bookmark Button

.