shishuprokash.com


স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে অসংখ্য শিশু : জামালপুরে ব্যাপকহারে তামাক চাষ

E-mail Print PDF
শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১১

শিশু প্রকাশ (জামালপুর): 'কাশি অয়, চোখ জ্বালা করে-তাও কাম করি। কি করমু, নিজেগোরে ক্ষেত তাই বাপ-মায়ের সঙ্গে কাম করি' ক্ষেতে শুকাতে দেয়া তামাক জড়ো করতে করতে কথাগুলো বলছিল চরগজারিয়া গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র শিশু আশাদুল। তার বাবার নাম আক্কাস। একই কথা বললেন একই গ্রামের বৌরা মন্ডলের ছেলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র নজরুল। শুধু আশাদুল আর নজরুল নয় চরগজারিয়া গ্রামের নবম শ্রেনীর ছাত্রী তাহমীনা, চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র পিয়াস, তারজীন, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফেন্সি, প্রথম শ্রেণীর ছাত্র আরমান, তানজিলা, সাড়ে ৪ বছরের শিশু মেঘলা ও একই বয়সী শিখা কাঁচা তামাক পাতা শুকাতে দেয়া আর ক্ষেত থেকে উঠানোর কাজ করছে। এদের সবার বাবাই কৃষক।

স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যপকভাবে চলছে তামাক চাষ। বিড়ি কোম্পানীগুলোর আর্থিক সহায়তা আর অন্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় গেলো কয়েক বছর যাবত জামালপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তামাক চাষের বিসতৃতি ঘটছে ক্রমাগত। জেলা সদরের চর গজারিয়া গ্রামের আনোয়ার আলী, বাবুল মিয়া, সামস উদ্দিন, গেদা মিয়া, আব্দুল রফিক, ফুল মিয়া বলেন, এক মন আলু বেইচা পাই ২৫০ থেকে ৩০০'শ টাকা আর একমণ তামাক বেইচা পাই ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা। তারা জানান, অভাবের সময়টা তারা তামাক বিক্রি করে কোন রকমে সংসার চালান। এবার জামালপুর জেলার লক্ষিরচর, তুলশীর চর ইউনিয়ন ও মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রামে প্রায় ৫ হাজার একরের বেশি জমিতে হয়েছে তামাক চাষ। যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন। গত বছর চাষ হয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে।

এই তামাক ক্ষেত থেকে উঠিয়ে শুকাতে হয় কয়েক দফা। শুকানোর পর ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর তা বিক্রি করা হয় তামাক কোম্পানীতে বা বাজারে। আর তামাক শুকানো আর ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজে কৃষক অভিভাবকরা লাগিয়ে দেন নিজেদের বউ-ঝির পাশাপাশি স্কুলগামী শিশুদের। আর এভাবেই ভয়াবহ তামাক বিষ ছড়িয়ে পড়ছে শিশু শরীরে। চুলকানি, কাশি, চোঁখ জ্বালার পাশাপাশি শিশুর শরীরে তৈরী হচ্ছে ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। শিশুরা জানিয়েছে, দীর্ঘক্ষণ তামাক পাতা নাড়া-চাড়া করলে হাতে কালো কালসিটে পড়ে। সাবান দিয়ে ধুলেও সহজে এই দাগ যায়না। মুখে তিতা তিতা ভাব আসে। তারপরও এইসব শিশু কাজ করছে তামাক শুকানো ও ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজে। এভাবে জেলার লক্ষিরচর, তুলশীর চর ও ঝাউগড়া ইউনিয়নে অসংখ্য শিশু পড়ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে । নিজেদের শিশুরা এইভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়লেও কৃষক অভিভাবকরা একেবারেই নির্বিকার। শিশু প্রকাশ জামালপুর টিমের সাংবাদিকরা এই ব্যাপারে অভিভাবক আনোয়ার আলী, বাবুল মিয়া, সামস উদ্দিন, গেদা মিয়া, আব্দুল রফিক, ফুল মিয়াকে প্রশ্ন করলে তারা বলেন, 'কি অইবো, কিছুই অইবো না-আমরা তো কাম করি আমগো তো কিছু অয়না'। এভাবে অভিভাবকদের অজ্ঞানতা ও আর সচেতনতার অভাবে শিশুদের শরীরে নিরবে ঢুকে পড়ছে তামাক বিষ।

এদিকে ব্যাপকভাবে তামাক চাষ ছড়িয়ে পড়লেও ক্ষতিকর তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে কারোরই কোন উদ্যোগ নেই।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জামালপুর কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ফজলুর রহমান বলেন, তামাক চাষে কৃষি বিভাগ কোন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করেনা, কারিগরিসহ তামাক চাষীদের কোন ধরণের সহায়তা দেয়া হয়না। তাছাড়া তামাক চাষের বদলে অন্য ফসল করতে মাঠ কমর্ীরা পরামর্শ দিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শিশু প্রকাশ জামালপুরের সদস্য তাসফিয়া তাহ্সিন মিম, সাদিয়া আকতার, জর্জিনা নওসিন, আসমা আকতার চাঁদনী, জান্নাতুল ফেরদৌসি পাপড়ী, জুবায়ের আহমেদ আরমান, সাইমুম সাবি্বর শোভন, সুলতান শাহেদ, মাহমুদুল হোসেন ও আতিকুর রহমান আতিক রিপোর্টটি তৈরি করেছে।

আপডেট-ফেব্রম্নয়ারী ২০১০



blog comments powered by Disqus
 


Content View Hits : 3308066
AddThis Social Bookmark Button

.