শিশু প্রকাশ রিপের্াট, গোপালগঞ্জ: আশীর্বাদ এজি চার্চ স্কুল, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিৰা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। শুধু এ কারনেই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম এজি চার্চ স্কুল এলাকার মানুষের কাছে পরিচিতি অনন্য শিৰা প্রতিষ্ঠান বৈশিষ্ট। আশ পাশের গ্রামসহ দূর দূরানত্দ থেকে অনেক লোক আসছে তাদের শিৰা কার্যক্রম দেখতে। এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, ঢাকাস্থ বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আশীর্বাদ' অর্থায়নে পরিচালিত একটি ব্যতিক্রমী শিৰা প্রতিষ্ঠান।এটির প্রতিষ্ঠাতা মহতি খৃষ্টান যাজক রেভা. লেরী আর্স স্মিথ। মনোরম পরিবেশে দরিদ্র মেধাবী শিৰার্থীদের আধুনিক শিৰা প্রদানে নিবেদিত একটি উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে স্কুলে শিশুশ্রেণীসহ ৫ম শ্রেণী পর্যনত্দ মোট শিৰার্থীর সংখ্যা ১শ ৬৮ জন। মুসলমান-হিন্দু-খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের ছেলে- মেয়েরা এ স্কুলে লেখাপড়া করলেও স্কুলের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরা খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের। স্কুল থেকেই সব শিৰার্থীদেরকে স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগ, ছাতা, দুপুরের খাবার এবং শীতের সময় শীতের চাদর দেয়া হয়। বাড়ির অপেৰায় না রেখে শ্রেণী কৰে পাঠ সম্পন্ন করতে শিৰার্থীদের পরিপূর্ণ সহযোগিতা করে স্কুলের অভিজ্ঞ শিৰক ম-লী। প্রধান শিৰক, সহকারী শিৰক ও পরিচালকসহ মোট ৬ জন শিৰক রয়েছেন। মেয়েদের জন্য হোস্টেলে ৩০ জন শিৰার্থী রয়েছে। স্কুলের ক্লাশ শুরম্ন হয় সকাল ৮.৪৫মি., টিফিন ১১.২০মি. ছুটি হয় ১.টায়। দুপুরের খাবার পর বেলা ২. টায় শুরম্ন হয় ৫ম শ্রেণীর কোচিং, চলে বিকাল ৪ টা পর্যনত্দ। স্কুলের বাৎসরিক ফল প্রকাশ ও বড়দিনের উৎসব একসংগে উদযাপন করা হয়। ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীসহ স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতির জন্য পুরস্কৃত করা হয় শিৰার্থীদের। গত বৎসরে ৪৮জন শিৰার্থীকে উপস্থিতির জন্য পুরস্কৃত করা হয়। ২০১০ সালে শিৰা সমাপনী পরীৰায় ২২ জন শিৰার্থী অংশ গ্রহণ করে এর মধ্যে ২১ জন প্রথম বিভাগ ও ১জন দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। সঙ্গত কারণে এ স্কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। অভিভাবকরা তাদের সনত্দানের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। ক্রমেই প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠছে অন্ধকারে আলোর প্রদীপ।
মুকসুদপুর উপজেলার গ-ি পেরিয়ে স্কুলটি ইতোমধ্যে স্ব-মহিমায় জেলার মধ্যে নিজের আসন করে নিয়েছে। স্কুলের প্রধান শিৰক মিতা অধিকারী বলেন শিশুদের এজি চার্চ থেকে ড্রেস, বইপত্র, চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। স্কুলের শিৰার মান বজায় রাখতে আমি ও আমার সহকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছি। সুদৰ শিৰকদের পরিপূর্ণ পাঠদানে চার্চের শিশুরা বরারই পরীৰায় ভালো সাফল্য অর্জন করে আসছে। বিভিন্ন শ্রেণীতে পড়ুয়া মুক্ত বেরাগী, চন্দ্রিমা, জবা বৈরাগী, হৃদয় শেখসহ শিৰার্থীরা জানায়, স্কুলে সকল সুযোগ সুবিধা আছে। প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেষ করতে হয়, বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে হয় না। দুপুরের খাবার, ড্রেস, ব্যাগ, বইপত্র, গ্রীষ্মকালে ছাতা, শীতকালে গরম কাপড় দেয়া হয়। ইনডোর আউটডোরে খেলাধুলার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক মানসিক বিকাশে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে স্কুলটি সচেষ্ট। স্কুলে খ্রিস্টান শিশুদের প্রার্থনার জন্য একটি গীর্জা আছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কানত্দি রায় বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা সব সময়ই করতে হয়। আশীর্বাদ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এলাকার হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিৰা কার্যক্রমকে গতিশীল ও শিৰার্থী ঝরে পড়া রোধ করতে তারা শিৰার্থীদেরকে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা, স্কুল ড্রেস, ব্যাগ প্রদান করে থাকে। আমার বিশ্বাস শিৰা ৰেত্রে আশির্বাদ এজি স্কুলটি অনেককেই আলোকবর্তিকা হিসেবে পথ দেখাতে সাহায্য করবে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দৰিণাঞ্চল জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম গ্রামের এজি চার্চ স্কুলের কোমলমতি শিৰার্থী ও শিৰক কর্মকর্তা কর্মচারী এলাকাবাসীর সংগে আলাপচারিতা ও প্রত্যৰ অভিজ্ঞতায় প্রতিবেদনটি তৈরী করেছে শিশুপ্রকাশ গোপালগঞ্জ দলের সদস্য আছিয়া খানম, আরবী আজাদ মিতু, সাজেদা খানম, রম্নপা খানম, খাদিজা ইসলাম খুশবু, খোন্দকার রাকিব উদ্দিন, সামিউল হক রাহাত, হাসিবুল ইসলাম হাচিব, প্রদীপ বিশ্বাস ও অনিক রায়হান সাবু। সমন্বয় করেছেন টীম লিডার হায়দার হোসেন।
শরিফুল রোমান
ডিসট্রিক অনলাইন কন্ট্রিবিউটর
গোপালগঞ্জ।
০১৭১৫ ১৭৬১১০।
২৩ অক্টোবর ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।








